
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বছরের বিভিন্ন সময়ে যে দীর্ঘ ছুটিগুলো পান তা আসলে কোনো উপহার বা বাড়তি সুবিধা নয় বরং তারা চাকরি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজেদের অবসরের একাংশ টাকা বিসর্জন দিয়েই এই ছুটিগুলোর মূল্য পরিশোধ করেন।
সরকারি নিয়ম অনুসারে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ভ্যাকেশনাল বা ছুটিপ্রবণ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে শিক্ষা ক্যালেন্ডারের নির্ধারিত দিনগুলোতে ছুটিতে থাকেন যার কারণে তারা অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মতো বছরে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্জিত ছুটি জমা করার সুযোগ পান না।
সাধারণ সরকারি কর্মচারীরা প্রতি ১১ দিন কাজের বিপরীতে ১ দিন করে পূর্ণ বেতনে অর্জিত ছুটি জমাতে পারেন এবং চাকরি শেষে অবসরে যাওয়ার সময় এই জমানো ছুটি নগদায়ন করে এককালীন সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ মোটা অঙ্কের ল্যাম্পগ্রান্টের টাকা তুলে নেন। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষকরা বছরের মাঝে বাধ্য হয়ে ছুটি ভোগ করার কারণে আইনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে বছরে মাত্র ১০ দিনের বেশি পূর্ণ বেতনে ছুটি জমাতে পারেন না ফলে দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর চাকরি করার পরও অবসরের সময় তাদের অ্যাকাউন্টে ১৮ মাসের সমপরিমাণ ছুটি জমা থাকে না।এর সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের অবসরের এককালীন ভাতার ওপর যেখানে অন্যান্য দপ্তরের একই গ্রেডের কর্মচারীরা পুরো ১৮ মাসের টাকা পকেটে নিয়ে বাসায় ফেরেন সেখানে শিক্ষকরা ছুটি কম জমার কারণে অনেক কম টাকা পান।
তাই শিক্ষকরা যে ছুটিগুলো কাটান রাষ্ট্র মূলত চাকরি শেষে তাদের পাওনা টাকা কেটে রেখেই সেই ছুটির হিসাব চুকিয়ে নেয় যা একপ্রকার নিজের জমানো টাকা দিয়ে বাধ্য হয়ে ছুটি কিনে নেওয়ার শামিল।
সাধারণ মানুষ বাইরে থেকে শুধু শিক্ষকদের ছুটির দিনগুলোই দেখে কিন্তু এই ছুটির আড়ালে শিক্ষকরা যে প্রতি বছর নিজেদের পেনশনের এককালীন টাকা হারাচ্ছেন সেই নীরব আর্থিক ক্ষতির খবর কেউ রাখে না। একই গ্রেডে চাকরি করেও শুধু এই ছুটির নিয়মের কারণে শিক্ষকরা অবসরের সময় বৈষম্যের শিকার হন।