
জাহাজের উৎস: গাওলান বন্দর, চীন।
সম্ভাব্য কার্গো: মিসাইল তৈরির রাসায়নিক ও প্রপেল্যান্ট।
নিষেধাজ্ঞা: জাহাজগুলো ইতিপূর্বেই পশ্চিমা দেশগুলোর কালো তালিকায় ছিল।
প্রভাব: এই সহায়তা চলমান যুদ্ধে হিজবুল্লাহ ও হুথিদের শক্তি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা তুঙ্গে, ঠিক তখনই চীন থেকে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া দুটি রহস্যময় জাহাজকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলি ও পশ্চিমা গোয়েন্দাদের দাবি, এই জাহাজ দুটিতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে—তবে কি সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে পরাশক্তি চীন?
জেরুজালেম পোস্টের বিস্ফোরক দাবি
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব চীনের জুহাই শহরের গাওলান বন্দর থেকে দুটি কার্গো জাহাজ তেহরানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। উল্লেখ্য, এই জাহাজ দুটির ওপর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, জাহাজে থাকা রাসায়নিকগুলো মূলত ব্যালিস্টিক মিসাইলের রকেট ফুয়েল বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের মিসাইল হামলা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বরাবরই বলে আসছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কাছেই সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে। তবে এই বিশাল সামরিক সক্ষমতা ইরান একা অর্জন করেছে নাকি এর নেপথ্যে চীনের কারিগরি ও কাঁচামালের সহায়তা রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ও ইরানের মধ্যে ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত চুক্তি এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি। রয়টার্সের তথ্যমতে, ইরানের উৎপাদিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯০ শতাংশেরই ক্রেতা চীন। ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তেলের বিনিময়ে ইরানকে উন্নত প্রযুক্তির সামরিক রসদ ও ড্রোন-মিসাইলের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে বেইজিং।
যুদ্ধের মোড় কি ঘুরে যাচ্ছে?
প্রকাশ্যে চীন সব পক্ষকে শান্ত থাকার এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানালেও, পর্দার আড়ালে তেহরানকে রসদ জোগানো কৌশলগত কারণেই বেইজিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইরান যদি এই যুদ্ধে টিকে থাকে এবং সাফল্য পায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করবে—যা চীনের দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য।