
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত পৌনে চার লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর জানুয়ারি মাসের বেতন এখনো জারি হয়নি। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জানুয়ারি মাসের বেতনের সরকারি আদেশ (জিও) জারির কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শিক্ষকরা বেতন পাবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষকদের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস হওয়ায় ওই দিন বেতন-ভাতার প্রস্তাব অনুমোদন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করার পর গত মঙ্গলবার জিও জারি হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী রোববার বা সোমবার শিক্ষক-কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার জিও জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি রোববার জিও জারি হয়, শিক্ষকরা সোমবার বেতন পাবেন। আর যদি সোমবার জিও হয়, তাহলে তারা মঙ্গলবার বেতন পাবেন।
মাউশির অর্থ ও ক্রয় শাখার পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটওয়ারী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৫টা পর্যন্ত জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার জিও জারি হয়নি। জিও জারির সঠিক কারণ জানাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। তবে জিও জারি হওয়ার পরপরই শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের বেতন পাবেন।’
প্রতিটি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন প্রক্রিয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানরা প্রস্তাব পাঠান। এরপর অনলাইন বিল দাখিলের মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতন-ভাতার অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বেতন ব্যাংকে পাঠানো হয়।
এছাড়া, সরকারের ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদনের উদ্যোগের ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার প্রক্রিয়া এখন আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বেতন বিলম্ব হওয়ার সমস্যা কমেছে এবং ট্রান্সপারেন্সি বৃদ্ধি পেয়েছে।
অতএব, জানা গেছে, এ বছরের জানুয়ারি মাসের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ১০ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকে পাঠানো হবে। এই বেতন দেরির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মচারীরা আর্থিক তাড়া অনুভব না করে স্বাভাবিকভাবে তাদের কাজ চালাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।