[contact-form][contact-field label="Name" type="name" required="true" /][contact-field label="Email" type="email" required="true" /][contact-field label="Website" type="url" /][contact-field label="Message" type="textarea" /][/contact-form]
স্মার্ট প্রাথমিক শিক্ষা: রূপান্তরের ১৩টি ‘ঐতিহাসিক’ প্রকল্!
যারা এখনো এই ১৩টি প্রকল্প সম্পর্কে জানেন না, তাদের জন্য তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
১. দৈনিক রেজিস্টার লিখন প্রকল্প: ক্লাসে পড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। শিক্ষকরা সারা দিন বসে শুধু শৈল্পিক পাঠটিকা আর পাঠ পরিকল্পনা খাতায় লিখবেন। ক্লাসে কী হলো তার চেয়ে খাতা কতটুকু নীল-কালো কালিতে রঙিন হলো, সেটাই হবে আসল ‘স্মার্ট’ শিক্ষা।
২. "ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব" প্রকল্প: প্রত্যেক শিক্ষককে একটি করে ট্যাব দেওয়া হবে। তবে শর্ত হলো—এটি দিয়ে শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ভিজিট এবং মন্ত্রী-কর্মকর্তাদের ফেসবুক পোস্টে লাইক-কমেন্ট করতে হবে।
৩. "বেতন সারপ্রাইজ" প্রকল্প: মাসের ১৫ তারিখ পার হতেই পকেট ফাঁকা! শিক্ষকের পকেটে টাকা নেই, তাই স্কুলে যাওয়ার ভাড়ার চিন্তা দূর করতে ‘টেলিফ্যাথি’ পদ্ধতিতে (বাসায় বসে দূর থেকে চিন্তা করা) ক্লাস নেওয়ার গবেষণা চলবে এই প্রকল্পে।
৪. “শূন্য খাতা, পূর্ণ অর্জন” প্রকল্প: ছাত্ররা না পড়লেও জাদুর কাঠি দিয়ে রিপোর্টে রেজাল্ট ১০০% দেখাতে হবে। বাস্তবতা যাই হোক, কাগজে-কলমে সাফল্য না দেখালে শোকজ নিশ্চিত!
৫. “মিটিং ইজ এভরিথিং” প্রকল্প: ক্লাস গোল্লায় যাক সমস্যা নেই, জুম মিটিং যেন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। পড়ানোর চেয়ে মিটিং করাটাই আসল শিক্ষা।
৬. “এক শিক্ষক, দশ দায়িত্ব” প্রকল্প: একজন শিক্ষক একইসাথে হবেন শিক্ষক, হিসাবরক্ষক, আইটি অফিসার এবং জরিপ কর্মকর্তা। অর্থাৎ, শিক্ষকতা বাদে দুনিয়ার সব কাজে তিনি পারদর্শী হবেন।
৭. "স্মার্ট বেঞ্চ VS ব্যাড স্টুডেন্ট" প্রকল্প: প্রতি বেঞ্চে সেন্সর লাগানো হবে। কোনো ছাত্র কথা বললে বা নকল করার চেষ্টা করলে বেঞ্চ থেকে অটোমেটিক মৃদু ইলেকট্রিক শক দেওয়া হবে।
৮. “ফাইল উড়াও, শিক্ষা বাঁচাও” প্রকল্প: যত বেশি কাগজের ফাইল বাড়ানো যাবে, শিক্ষা ব্যবস্থার তত বেশি উন্নয়ন হয়েছে বলে ধরা হবে। পড়াশোনার চেয়ে কাগজের ভারই বড় কথা।
৯. “শিশুর চেয়ে ছবি গুরুত্বপূর্ণ” প্রকল্প: পড়াশোনা পরে হবে, আগে সুন্দর করে পোজ দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুক ও ড্যাশবোর্ডে পোস্ট দিতে হবে। ছবিই উন্নয়নের একমাত্র প্রমাণ।
১০. "ফার্মা-টিচিং টার্গেট" প্রকল্প: ওষুধ কোম্পানির মতো প্রতি মাসে পাসের হারের ‘টার্গেট’ দেওয়া হবে। ছাত্র পারুক বা না পারুক, খাতা-কলমে ৯৯.৯৯% পাস চাই। আমাদের শুধু সুন্দর ‘শতাংশ’ দরকার।
১১. "স্মার্ট ক্লাসরুম বনাম টানা-হেঁচড়া" প্রকল্প: নামে স্মার্ট হলেও শিক্ষক আসলে একজন 'ডিজিটাল কুলি'। ল্যাপটপ, প্রজেক্টর আর স্পিকারের বস্তা কাঁধে নিয়ে এক রুম থেকে অন্য রুমে দৌড়াতে দৌড়াতে আর তারের জট ছাড়াতে ছাড়াতেই ক্লাস শেষ। সবশেষে শুধু কার্টুন দেখিয়েই ছুটি!
১২. “উপরের নির্দেশ, নিচের টেনশন” প্রকল্প: সব আজগুবি সিদ্ধান্ত আসবে ঢাকার এসিরুমে বসে, আর তার চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলে।
১৩. “শিক্ষক বলির পাঁঠা” প্রকল্প: রোদ উঠলে শিক্ষকের দোষ, ঝড় আসলে শিক্ষকের দোষ, আর ফলাফল খারাপ হলে তো কথাই নেই! সব ক্রেডিট ওপরের মহলের, আর সব দায় ওই নিরুপায় শিক্ষকের।