
রোববার (৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বিলগুলো সংসদে উত্থাপন করেন। পরে তা পাস হয়।
নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বিলের আওতায় সিভিল সার্ভিসের সকল ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, সিভিল সার্ভিসের আওতা বহির্ভূত অন্যান্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্ব শাসিত সংস্থাসমূহে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ এবং প্রতিরক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চাকরিতে স্ব স্ব বিধিমালা বহাল থাকবে।
এছাড়া বিল অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বৈধ নির্দেশ অমান্য করেন বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া সরকারি নির্দেশনা ও পরিপত্র বাস্তবায়নে বাধা দেন, তাহলে তা ‘শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া অনুমতি ছাড়া দলবদ্ধভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা অন্য কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়াও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নতুন বিধানে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে পদাবনতি, বেতন গ্রেড হ্রাস, বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে।
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিলটিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে হবে।
জবাব সন্তোষজনক না হলে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং ওই কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে একবারের জন্য অতিরিক্ত ৭ দিন সময় বাড়ানো যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে তদন্ত কমিটির সদস্যদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে তা তাদের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (পিএমআইএস) ও সরকারি নথিতে ‘অদক্ষতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হবে, যা তাদের বিরুদ্ধে পৃথক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ হতে পারে।
এই দুটি বিলই অন্তবর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ। যা হুবহু উত্থাপিত হয়ে পাস হলো।
এর মধ্য দিয়ে ১৩৩ অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপিত এবং পাস হওয়া শুরু হলো। বাকিগুলো ৯ এপ্রিলের মধ্যে বিল আকারে উত্থাপনের সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে।