পবিত্র রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের সবচেয়ে বড় চাহিদা হয়ে দাঁড়ায় পানি। সেহরি শেষে দীর্ঘ সময় না খেয়ে-না পান করে থাকার কারণে শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে এ বছর রমজান এসেছে শীতের শেষভাগ ও গ্রীষ্মের শুরুর প্রেক্ষাপটে। রাতে কোথাও হালকা শীত থাকলেও দিনে শহর-গ্রাম উভয় জায়গাতেই বাড়ছে গরমের তাপমাত্রা। ফলে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ডিহাইড্রেশনের আশঙ্কা আরও বেশি।
এ অবস্থায় ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত কীভাবে পানি পান করলে শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকবে, তা নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। এ বিষয়ে একটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর মিরপুরভিত্তিক নিউট্রিলার্নবিডির নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েট কনসালট্যান্ট পুষ্টিবিদ রোকসানা তনু।
তিনি জানান, রমজানে শরীরকে হাইড্রেট রাখতে ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১২ গ্লাস, অর্থাৎ আনুমানিক ২ থেকে ৩ লিটার তরল গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে একসঙ্গে অনেক পানি পান না করে অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে পান করাই ভালো। এতে শরীর সহজে পানি শোষণ করতে পারে এবং অস্বস্তি কম হয়।
কী এই ৪-২-২-২ প্যাটার্ন?
রমজানে পানি পানের ক্ষেত্রে তিনি একটি সহজ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দেন, যাকে তিনি বলেন ৪-২-২-২ প্যাটার্ন।
এই প্যাটার্ন অনুযায়ী, ইফতারের সময় ৪ গ্লাস পানি, মাগরিবের পর ২ গ্লাস, রাতের খাবারের পর ২ গ্লাস এবং সাহরির সময় ২ গ্লাস পানি পান করা ভালো। তনু বলেন, এই নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে পানি পান করলে শরীর দীর্ঘ সময় হাইড্রেট থাকে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ সঠিকভাবে পানি পান?
রোকসানা তনুর মতে, পর্যাপ্ত পানি পান করলে রোজার সময় মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি কিছুটা কমে আসতে পারে। এছাড়া শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা, হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখা এবং ত্বক ও কিডনির সুস্থতার জন্যও পানি অপরিহার্য।