বর্তমানে বাতাসে বাতাসে ছড়ানো রোগবালাই, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা খুব দ্রুত ছড়াচ্ছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে একটি নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি অতি পরিবর্তনশীল ভাইরাস যা দ্রুত জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজের স্ট্রেন পরিবর্তন করে ফেলে। যার কারণে প্রতিবছরই এটি নতুন রূপে আসে এবং এবারও একটি নতুন স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছে।
আক্রান্ত শিশুদের লক্ষণ নতুন এই স্ট্রেনে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে বেশ কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা দেখা যাচ্ছে:
জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি ও ঠান্ডা।
রাইনাইটিস বা নাক দিয়ে পানি পড়া।
খুশখুসে কাশি যা অনেকদিন ধরে চলছে (প্রলং হচ্ছে)।
কাশির কারণে শিশুদের খেতে সমস্যা হচ্ছে এবং তারা ঘুমাতে পারছে না। শুলেই কাশি বেড়ে যাওয়ায় শিশুরা ঘুম থেকে উঠে বসে থাকছে।
প্রতিরোধের উপায় ও ব্যক্তিগত সচেতনতা এই রোগ থেকে বাঁচতে প্রতিরোধের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা: ১. পার্সোনাল হাইজিন: ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। ২. ভিড় এড়িয়ে চলা: শিশুদের নিয়ে অতিরিক্ত জনসমাগম আছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে। ৩. মাস্ক পরিধান: বাইরে বের হলে শিশুদের মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে এবং এটি অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। ৪. কাশি ও হাঁচির শিষ্টাচার: হাঁচি-কাশির সময় কনুই দিয়ে বা হাত দিয়ে মুখ ঢাকা শিশুদের শেখাতে হবে।
বিজ্ঞাপন: আরআইএলএমএ (RILMA), যুগের পর যুগ স্থাপনা থাকে মজবুত।
ভ্যাকসিনেশন ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কেন প্রতিবছর ভ্যাকসিন নেবেন: যেহেতু ভাইরাসের স্ট্রেন প্রতিবছরই চেঞ্জ হয়, তাই সুরক্ষা পেতে প্রতিবছরই এই ভ্যাকসিন নিতে হয়।
ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ভ্যাকসিন কোনো ভয়ের জিনিস নয়। এটি দিলে দুই-তিন দিন একটু শরীর ম্যাচ ম্যাচ করতে পারে বা হালকা জ্বর আসতে পারে, যা আপনা-আপনি ভালো হয়ে যায়। এর জন্য গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
কখন নেবেন: সাধারণত মৌসুমের শুরুতে বা সিজন চেঞ্জের সময় (যেমন শীতের শুরুতে) ভ্যাকসিন নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
কাদের জন্য ভ্যাকসিন বেশি জরুরি?
৬ মাসের বড় শিশুদের ক্ষেত্রে এটি নেওয়া জরুরি।
বয়স্ক ব্যক্তি, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা প্রেসারের সমস্যা আছে।
ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD), ব্রঙ্কাইটিস এবং এজমা বা হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন অত্যন্ত কার্যকর।
/ দৈনিক জনকণ্ঠ/