সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বিষয়ে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কমিশনের ২১ সদস্য বিষয়টি বিশদ পর্যালোচনা করছেন। শীঘ্রই তাঁরা সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বেতন কমিশনের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। বিভিন্ন পক্ষ কমিশনের কাছে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছে। কেউ লিখিতভাবে, কেউ সরাসরি সাক্ষাৎ করে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সব দিক বিবেচনা করেই সুপারিশ তৈরি হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করে দিয়ে যেতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কমিশনের ২১ জন সদস্য। তাঁরা সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করছেন। সঙ্গে আছে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা প্রতিবেদনের বিষয়। আবার আছে ডিফেন্সের জন্য একটা উপ-কমিটি কমিটি। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, নির্বাচনের আগে বেতনকাঠামো সম্ভব নয়, পরবর্তী সরকারে আসবে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন বিষয় তুলে ধরলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বেতনকাঠামোর বিষয়ে গভর্নরের কিছু নেই। গভর্নর ব্যাংক সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত দিতে পারেন। এটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন, সেটা পরীক্ষা করা হচ্ছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই পাঁচ ব্যাংকের অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা যেটা বলছি ডিপোজিটররা টাকা পাবেন, এটা ভেরি সিমপল। যার টাকা জমা আছে, সে টাকা পাবেন। আর শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ার কিনেছে কোন কনটেক্সটে কিনেছে, মার্কেট প্রাইসে কিনেছে, শেয়ারহোল্ডার ওয়ান্টেড টু বি ওনার। ওরা ভলান্টারি তো বোঝে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জ্বালানির ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনা করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে একটা প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে, আমিও ছিলাম সেখানে। কারণ জ্বালানি তো আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি যদি আমরা এনসিওর না করতে পারি, লোকাল প্রোডাকশন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জ্বালানির দুইটা দিক আছে- পাওয়ার এবং এনার্জি। ওই দুইটা দিকে একটা কমপ্রিহেনসিভ করা হয়েছে। আমাদের নিজস্ব অফশোর ড্রিলিং, তারপরে কয়লার ব্যবহারটা কীভাবে করব। মধ্যপাড়া কয়লাটা আছে সেটা হার্ড রক। এগুলো একটা কমপ্রিহেনসিভ ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দেশজুড়ে এলপি গ্যাস নিয়ে কাজ চলছে। জ্বালানি সরবরাহ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের, এ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
জ্বালানির দুইটা দিক আছে- পাওয়ার এবং এনার্জি। ওই দুইটা দিকে একটা কমপ্রিহেনসিভ করা হয়েছে। আমাদের নিজস্ব অফশোর ড্রিলিং, তারপরে কয়লার ব্যবহারটা কীভাবে করব। মধ্যপাড়া কয়লাটা আছে সেটা হার্ড রক। এগুলো একটা কমপ্রিহেনসিভ ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ খুবই ভালো করছে। তবে রাজনৈতিক কারণে মাঝে মাঝে অস্থিরতা বা কিছু বাধা-বিপত্তি আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ জোরদার করার লক্ষ্যে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন এবং ২০ হাজার বিদ্যামান চালক রয়েছেন। এতে ব্যয় হবে ২৩০ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা। অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন চালককে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদ্যমান ২০ হাজার চালককে উন্নত দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপগ্রেড করা হবে।//দৈনিক জনকণ্ঠ//